আইনি গ্যাঁড়াকলে কোম্পানিগুলো: আইন মানতে গিয়ে আইন ভাঙছে

এম এইচ রনি:

আইনি নির্দেশনা না মেনে স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর আবার ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ফের আইন লঙ্ঘন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সমতা লেদার কমপ্লেক্স।এতে এক আইন পরিপালন করতে গিয়ে আরেক আইন ভাঙলো কোম্পানিটি।

জানা যায়, ৩০ জুন,২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছিল সমতা লেদার কমপ্লেক্সের পরিচালন পরিষদ। এ সংক্রান্ত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নেগেটিভ রিটেইনড আর্নিংস থাকা সত্বেও স্টক ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অমান্য করে সমতা লেদার। সেই নির্দেশনা পরিপালন করার জন্য আজ ৮ ডিসেম্বর সমতা লেদার কমপ্লেক্স তাদের সুপারিশকৃত ২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করার জন্য এজিএমের ৩নং এজেন্ডা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিএসইসি’র গত ২ অক্টোবর জারি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যেহেতু পুঞ্জীভূত লোকসান বিদ্যমান থাকা সত্বেও ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ, ঘোষণা ও বিতরণ করা যাবে। তাই সমতা লেদার কমপ্লেক্স সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশকৃত ২ শতাংশ স্টকের পরিবর্তে ক্যাশ ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করেছে।

এদিকে দেখা যায়, এক নির্দেশনা পরিপালন করতে আরেকটি আইন ভঙ্গ করেছে সমতা লেদার কমপ্লেক্স। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (লিস্টিং) রেগুলেশনস ২০১৫ এর ১৯ (২) ধারায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশকৃত ডিভিডেন্ড বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) পূর্বে পরিবর্তন করা যাবে না। সমতা লেদার কমপ্লেক্সের এজিএম আগামী ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। তাই লিস্টিং রেগুলেশনস অনুযায়ী কোম্পানিটি তার সুপারিশকৃত ২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড এজিএমের আগে পরিবর্তন করতে পারে না। এক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত একটি আইন পরিপালন করতে গিয়ে আরেকটি আইন ভঙ্গ করেছে সমতা লেদার কমপ্লেক্স।

এ ব্যাপারে কোম্পানিটির সাথে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির শেয়ার ডিপার্টমেন্টের অফিসার মো. রমজান আলী বলেন, আমরা গত ২০১২-২০১৩ সালে কিছু জমি বিক্রয় করে ব্যাংক লোন পরিশোধ করেছি। তাছাড়া আরো বেশ কিছু কারনণ পুঞ্জিভূত লোকসানে পড়েছি। প্রথমে স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়ার সুপারিশ করেছি। এক আইন পরিপালন করতে গিয়ে আরেক আইন ভাঙলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরাতো বিএসইসির নির্দেশনা মেনেই ডিভিডেন্ড দেয়ার সুপারিশ করেছি। এখানে এক আইন মানতে গিয়ে আরেক আইন ভঙ্গ করেছি কিনা তা জানা নেই। তবে আমরা নির্দেশনার বাইরে কিছু করিনি। আমরা ডিএসইকে চিঠি দেয়েছি এবং তাতে সমস্ত বিষয়ে ব্যাখা দেয়া আছে।

এর আগে, ৩০ জুন,২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছিল আরেক কোম্পানি বিডি অটোকারস। এ সংক্রান্ত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ১৫ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নেগেটিভ রিটেইনড আর্নিংস থাকা সত্বেও স্টক ডিভিডেন্ডের সুপারিশ করে বিএসইসি’র নির্দেশনা অমান্য করে কোম্পানিটি। সেই নির্দেশনা পরিপালন করার জন্য গত ২০ নভেম্বর বিডি অটোকারস তাদের সুপারিশকৃত ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করার জন্য এজিএমের ৩নং এজেন্ডা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ কোম্পানিটিও সমতা লেদারের মতো এক আইন পরিপালন করতে গিয়ে ভাঙে আরেক আইন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে কোম্পানিগুলো বার বার আইন লঙ্ঘন করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃষ্টিতে এ বিষয়গুলো পড়ছে না কেনো? কোম্পানিগুলো আইনি নির্দেশনা না মেনে ডিভিডেন্ড সুপারিশ করছে। এটাওতো একটা বড় অপরাধ। পরবর্তীতে আইনি নির্দেশনা মানার কথা বলে ভাঙছে আরেক আইন। এভাবে যদি চলতে থাকে তা হলে এর প্রভাব পড়বে তালিকাভুক্ত ভালো কোম্পানিগুলোর ওপরও। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

Tagged